নিরুংকুশ জয়ের বিশ্বনেতাদের অভিনন্দনে ভাসছেন তারেক রহমান
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 13 Feb, 2026
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের দেখা পেল বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত প্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচনে নিরুংকুশ জয় পেয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ইতিমধ্যেই সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে।
এই জয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্র জোট ইতিমধ্যেই ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ও তার জোট পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো—প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বশক্তিগুলো।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "বাংলাদেশি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই নির্বাচনে ফুটে উঠেছে।" বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশংসা করেছে সংস্থাটি।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস একে "বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বড় দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইইউ-এর ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্বাচনকে "বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ" বলে মনে হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, "তারেক রহমানের এই বিজয় দক্ষিণ এশিয়ায় স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক শক্তিশালী উদাহরণ।
" অন্যদিকে, আল জাজিরা গুরুত্ব দিয়েছে একই সাথে অনুষ্ঠিত 'জুলাই চার্টার' গণভোটের ওপর, যেখানে ৭৩% মানুষ শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
ভূ-রাজনৈতিক অভিনন্দন ও নতুন বার্তা
নির্বাচনী ফলাফলের ইঙ্গিত আসতেই প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বনেতারা অভিনন্দন পাঠাতে শুরু করেছেন।
ভারত:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, "এই বিজয় আপনার নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন। একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ভারত সবসময় পাশে থাকবে।"
যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তারেক রহমানের বিজয়কে "ঐতিহাসিক" বলে অভিহিত করেছেন এবং সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোনো প্রকার উচ্ছ্বাস বা বিজয় মিছিল না করার জন্য নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের বিজয়।
আগামী শনিবার তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।
আগামীকাল ইইউ ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট পেশ করবে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

